অমিতাদির ছানা

 অমিতাদির ছানা

অঞ্জলি দে নন্দী, মম

অমিতাদির ছানা।
গলা তার জানা।
যখন সে হাঁকে -
" বাঁকে এ এ এ ! এ এ এ ই ই ই বাঁকে! "
তখন রামমোহন হোষ্টেলের দেওয়াল কাঁপে।
আর তখন বেচারা বাঁকে,
ছুটে আসে দি'র ঘরে
দম না ফেলে, এক হাঁফে।
দি চিৎকার করে -
দেখে আয় ছাত্রীদের ঘরে ঘরে ঘরে
ঠিকঠাক চলছে কি তারা!
ছাত্রীরা সব চট জলদী ঠিকঠাক হয়।
চোখের নিমেষে হয় সব কাজ সারা।
বেড কভার ফিটফাট।
রাতের জুড়ে নেওয়া যত খাট
ফটাফট হয়ে যায় আলাদা, 
থাকে দূরে দূরে দূরে।
সবার ঘরে ঢুকে ঢুকে ঢুকে ঘুরে ঘুরে ঘুরে
বাঁকে দাদা
তরফদারী সেরে ফেরে দি'র ঘরে।
বলে বিনীত সুরে -
দিদি! সব কুছ ঠিকঠাক হ্যায়! 
দিদি বলে হেসে হেসে হেসে -
আমার মেয়েরা বড় ভালো রে বাঁকে!
ওদিকে ঘরে ঘরে ঘরে
যত মেয়ের দলে
তারা সবাই মজায়লুটোপুটি করে
হেসে হেসে হেসে।
ওরা এমনি করেই বহুৎ খুশ থাকে।
এমন কড়া সুপারিনটেনডেন্ট দিদির ন্যায়,
আর বোধ হয় কেউই নেই।
এখন সে আর বেঁচে নেই।
তবুও তার কথা মনে এলে
সেদিনের সেই সব দিন রাত,
যা অতীতে এসেছি ফেলে,
আঁখি ভরে জলে।
তখন আমরা কত মেয়ে থাকতাম, একসাথ।
আজও সে দব কথা ভি. ডি. ও. - কলে চলে।
এখন আমরা পৃথিবীর নানা দেশে আছি।
কেউই নৈ কারোর কাছাকাছি।
তবুও কাছের কত!
সত্যিই বড় ঘনিষ্ঠ জীবনের পথও।




Comments