Posts

Showing posts from October, 2020

রোদের শরীর বৃষ্টি শরীর

Image
  রোদের শরীর বৃষ্টি শরীর একটা টানটান রোদের দিন  একটা সকালে জমা হতে আসা শুভ ইচ্ছারা  ময়দান ময় উত্তেজনার ফুলকি ধারা একটা দিন বৃষ্টি টিপটিপ  ভেজা ব্যালকনি ঘামের শরীর  উষ্ণতা হীন ফাইল বন্দি পুরানো চিঠিরা  আমি আর তুমি হাত ধরাধরি হাত ধরাধরি  আমি আর তুমি  তুমি আর আমি আমাদের শরীর ভাগ করে নেয়  টানটান রোদ পুরনো চিঠিরা আমরা হাত ধরাধরি  আবার উষ্ণতা হীন ফাইল বন্দি পুরনো চিঠিরা   শীতের মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে যাই একটা আস্ত রোদের শরীর বৃষ্টি শরীর  আমি আর তুমি  তুমি আর আমি হাত ধরাধরি... হাত ধরাধরি...                                                 -সাত্যকি।

সুদীপ্ত বিশ্বাসের এক গুচ্ছ কবিতা

Image
  পাতকী - সুদীপ্ত বিশ্বাস এসেছে প্রেমিক যুবা প্রেম ভেঙে গেলে পাষণ্ড পুলিশ থেকে ডাকাতের দল সব্বাই এসেছে আর ঢেলে গেছে বিষ। ধোয়া তুলসী পাতা যে সেও তো এসেছে এঁটো পাতে চেটেপুটে খেয়ে চলে গেছে। এসেছে উকিল বাবু এসেছে সন্ন্যাসী মুখ পাল্টাতে এসেছে গৃহস্ত মানুষ। এসছে জুতো বিক্রেতা, জুতো কেনে যারা তারাও এসেছে সব গাঁ উজাড় করে। কি নেবে গো দেহ থেকে? দেহে কীইবা আছে? নর দেহে যত পাপ সব মুছে নিয়ে রক্ত মাংস বিষ মেখে অন্তরে অন্তরে ধর্ষিত হয়েছি রাতে অযুত বছর। সমস্ত শরীর দিয়ে বিষ শুষে নিয়ে অপবিত্র তবু আমি, কুলটা, পাতকী! ****************** বাক্যহারা - সুদীপ্ত বিশ্বাস রাতদুপুরে আসছে উড়ে একটা দুটো স্বপ্ন পাখি হারানো সেই সোনালি দিন, এখন একে কোথায় রাখি! আবছা আলোয় চমকে দেখি সেই যে তুমি মেঘের মেয়ে কলসি নিয়ে দুপুরবেলা একটু দুলে ফিরছ নেয়ে হাল্কা রঙা কল্কা শাড়ি, দুলছে বেণী ইচ্ছেমত স্তব্ধ চোখে থমকে থাকি, আরে এটাই সেই ছবি তো! সেই যে যেটা হারিয়ে গেছে একটুখানি অসাবধানে আজ পুরোটা রাখব ধরে, আজকে লিখে রাখব প্রাণে। গভীর রাতে আবছা আলো, হতেও পারে চোখের ভুল বলো না তুমি সত্যি করে,তুমি কি সেই টগরফুল? যাচ্ছে খুলে স্মৃতির পাতা,ড...

দেবপ্রসাদ জানার লেখা কবিতা

Image
  ।চুয়াত্তরে স্বাধীনতা।।     দেবপ্রসাদ জানা       স্বাধীনতা তুমি বুড়ি হয়েছো এখনি চুয়াত্তরে তুমি বৃদ্ধা, পাপ অপরাধ হিংসা বিবাদের মাতা, মানুষ হয়নি কেন তোমার সন্তান,হয়নি প্রহ্লাদ। অপদার্থ অকর্মণ্য সন্তান তোমার খুনখুনি রাহাজানি ধর্ষণ ব্যতিত দিনকাটে না তাদের,অকৃতোপকার বিপন্ন বিস্ময়ে কাঁপে পার্থিব ক্ষুধার্ত মহাস্তব্ধতায় তুমি অবহেলা করো শাসনে রক্ত নয়নে শূন্যময় প্রাতে প্রত্যাশা পীড়িত মন নিরাশায় ভরো বোধের মরন হয় স্বাধীন ভারতে জাগো মাতা স্বাধীনতা অস্ত্র তুলে নাও দুয়ারে তোমার শত্রু, কেন ভুলে যাও। ।। আকাঙ্ক্ষা।। দেবপ্রসাদ জানা     জীবনের কত দিন অধরা থেকেছে কত অসমাপ্ত কথা বলতে পারিনি মনের আকাঙ্ক্ষা মনে আজো রয়ে গেছে কোন কথা বলা হবে তখনো বুঝিনি। একটা পোকা শরীর বেয়ে প্রতিদিন মাথায় উঠতে চায়, মনের অজান্তে পোকাটা ধমনী ফুঁড়ে শোণিতে বিলীন উন্মুক্ত যৌবন ডাকে পলাশ বসন্তে আঠারো পার করিনি,তখনো কৈশোর যৌবনের পোকা গুলো সবে অঙ্কুরিত স্বপ্নের নীল ধোঁয়ায় হৃদয় বিভোর লাল কুসুম সূর্যের তেজ প্রকাশিত। উন্নত পর্বত মালা হাঁক দিয়ে ডাকে আদিম উষ্ণতা খোঁজে গুহামানবকে।।...

মানুষ এসবের মালিক নয়

Image
                    মানুষ এসবের মালিক নয়                                      আবদুস সাত্তার বিশ্বাস        অনেকক্ষণ আগে হিসি লাগলেও হিসি করেনি রহিদুল।ফাঁকা রাস্তায় এসে তাই সে একটা ঝোপের ধারে টপ করে সাইকেল রেখে দাঁড়িয়ে গেল।ও হিসি সেরে সাইকেলের কাছে এসে দেখল যে,ঝুল পাঞ্জাবি পরিহিত একজন মানুষ তার সাইকেলের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।রহিদুলকে তিনি কিছু বলতে চান।সেটা বুঝতে পেরে রহিদুল সেই ব‍্যক্তিকে নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করল,"কি ব‍্যাপার চাচাজি,দাঁড়িয়ে কেন?কিছু বলবেন নাকি?"       "হ‍্যাঁ।তোমার সঙ্গে আমার কিছু দরকার আছে।"       "কিন্তু আপনি কে আমি চিনতে পারলাম না যে আপনাকে।"       "আমার বাড়ি সামনে কিছুটা গিয়ে উদয়পুর গ্রামে।আমার নাম হাজি মহাম্মদ মতিউর আলি সাহেব।"   ...

পাদপূরণ

Image
  পাদপূরণ      দীপঙ্কর সরকার  হঠাৎ হঠাৎ শব্দ আসে আবার হারিয়ে ও যায়  ব্যাঙ্কে লিঙ্ক না থাকার মতো । হাজারো মাথা  খুঁড়ে ও স্মরণে আসে না সেই সব শব্দমালা --   অন্য শব্দ বসিয়ে পাদপূরণ করতে হয় না-লেখা   কবিতাটা শেষ হয় বটে, তখন ও মনটা খচ খচ   করে কী লিখতে কী লিখে ফেললাম-- শিব গড়তে   বাঁদরের মতো, কিম্বা শেষও হয় না কখনও,   আদালতের মতো মুলতবি থাকে অর্ধ সমাপ্ত  সেই না-লেখা কবিতা ।

গল্প- শিক্ষাই পরিচয়

Image
  গল্প- শিক্ষাই পরিচয়  সুমিতা চৌধুরী  মেট্রো স্টেশনে নামতে গিয়েই খুব জোরে ধাক্কা খেল জিৎ! হাতের সব কাগজপত্র পড়ে গেল প্ল্যাটফর্মে। মুখ তুলে দেখল, তার পরিচিত সেই মুখ, যে বেশ কিছুকাল হলো স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে গেছে সেই তীব্র অপমানিত হওয়ার পর থেকে। সজল ডাগর দুটি চোখে যেন নিঃস্বার্থ ক্ষমার আকুতি। জিৎ মনে মনে বুঝতে পারল নিজেকে না দেখতে দিতে ও তাকে এড়াতেই এমনটা ঘটিয়ে ফেলেছে নয়না। তড়িঘড়ি অফিসের কাগজপত্রগুলো কুড়িয়ে নিয়েই জিৎ নয়নার পথ একরকম প্রায় আগলেই দাঁড়াল। " দাঁড়াও, প্লিজ যেও না আমার কথা না শুনে আজ। জানি, হয়তো একথা বলার অধিকার হারিয়েছি আজ তোমার মনের কাছে। তবু কিছু কথা তোমার জানা দরকার। সেদিন আমার বাড়িতে আমার পরিবারের হাতে তোমার চরম অপমান মা চেষ্টা করেও আটকাতে পারেনি, আমিও না। তার জন্য শুধু আমি নয়, মাও মর্মে মরে আছে। পরদিন মা একান্তে আমায় বলেছিল, " বাবু, মানুষের পরিচয় তার জন্ম দিয়ে হয় না,  শিক্ষা দিয়ে হয়। শিক্ষাই  প্রতিটা মানুষের একমাত্র মাপকাঠি। তাই  মালতীর মেয়েকে মন থেকে বউমা বলে মেনে নিতে আমি এতোটুকুও দ্বিধান্বিত বা কুণ্ঠিত নই। বাকী সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে তোমার...

কবিতা- মনে ভাসছে পূজার রঙিন দিনগুলি

Image
  কবিতা- মনে ভাসছে পূজার রঙিন দিনগুলি   সুমিতা চৌধুরী  পূজো আসছে,  মনে ভাসছে,  সেই রঙিন দিনের ছবি। শিউলি, কাশের ভরা জলসায়, শরতের সাদা মেঘের ভেলায় আলোকোজ্জ্বল রবি। মনেই বাজে ঢাকের বাদ্যি,    ঢ্যাং কুড়কুড় তা, কাঁসর, ধুনুচি, শঙ্খধ্বনি, বছর ঘুরে আসে যে মা। আড্ডা, গল্পের জমাটি আসর প্রাণের উৎসব মাঝে, শত ব্যস্ততায় নেই ফুরসৎ সকল থেকে সাঁঝে। উমার অভ্যর্থনায় সাজে মণ্ডপ,  পথও সাজে আলোর রোশনিতে। লোকে লোকারণ্য পথ-ঘাট সব, শারদীয়ার মিলনমেলায় সবাই ওঠে মেতে। পাটভাঙা শাড়ি, আনকোরা পাঞ্জাবি, হাল ফ্যাশনের কেতায় সেজে, অঞ্জলি, সন্ধিপুজো,ধুনুচি নাচের আসরে, রয় সবার মন মজে। আজও পূজো এসেছে আবার,  তবু নেই মনে  আনন্দ-উৎসবের রেশ। শুধু ভাসছে মনে অতীতের   সেই প্রাণঢালা দুর্গোৎসবের আবেশ।।

লক্ষণরেখা...

Image
  লক্ষণরেখা... --------//------- শিল্পী মিত্র হাতি আমি সোহেল, সোহেল রানা, একটি নামকরা প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার, নিজেও লিখি, লেখক হিসেবেই পরিচিতি বেশি। সম্প্রতি বেশ কিছু বই   ভালোই কাটছে। তবে লিখি আমি ছদ্মনামে, 'রানা'। ফেসবুকের আ্যাকাউন্ট ও 'রানা'।  ফলত, ফেসবুকে আমার অজস্র পাঠক, পাঠিকা, মহিলা ফ্যানেদের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান।  ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে পাঠকের কাছে লেখক খুব অল্প সময়ে পৌঁছতে পারছে। মন্দ নয় এ প্রযুক্তি। আমিও আজকাল অনেকটাই আ্যাকটিভ থাকি অবসরে।মধ্যপঞ্চাশ, বিবাহিত, সন্তানের জনক, কোন দিকেই আমার কোন অপূর্ণতা নেই। তবে রোজকারের গার্হস্থ জীবনে একটু একঘেয়েমি হয়ত এসে পড়েছিল, আর সেটাই বোধহয় ইন্ধন জোগাল আমার মনস্খলনের।  প্রেমে পড়েছিলাম, নাহ প্রেম বলব কি!! আসলে ভালবেসে ফেলেছিলাম এক নারীকে, বয়েসটা তারও মধ্যাহ্নে, পুরোপুরি সংসারী। ফেসবুকের লেখাতেই তার সাথে আমার পরিচয়, ক্রমশ হৃদ্যতা। কেমন লিখত সে? সত্যি বলতে কি, কোন গ্রেডই দেওয়া যায়না, আমি নিজে একজন প্রকাশক, তাই লেখার মৌতাত কার কতটা, সে চোখ আমার বরাবর প্রখর ছিল।  অজস্র ভুল বাংলা বানান প্রমাণ করত তার বিদ্যের সীমানাট...

একটা_তুষারঝড়_পেরিয়ে

Image
  একটা_তুষারঝড়_পেরিয়ে -    ---------®সুপ্তোত্থিতা_সাথী            কলেজ ক্যান্টিনে অধৈর্য্য হয়ে এক কোণে বেঞ্চে বসে, জিয়ন। ধুমপান দন্ডে পর পর কয়েকটা টান মেরে পায়ের তলায় আচ্ছাসে তাকে এমনভাবে পিষে  দিল যেন বিরক্তির টুঁটি চেপে তাকে খতম করে দেওয়া হলো। -'ধ্যাত! কলেজেও কেউ যে এমন সিরিয়াসলি পড়তে শুনতে আসে,তা এই মেয়েটাকে দেখে এদ্দিনে বিশ্বাস হল আমার। আরে স্টুডিয়াস হ আর মেরিটোরিয়াস,তা বলে কি প্রেম-ট্রেম করতে নেই! কোন বইতে এমনটা লেখা টেখা আছে শুনি! প্রশ্ন করলেই তো মেয়ে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে।সেই থেকে রুহির জন্য ওয়েট করতে করতে পস্টেরিয়ারের নার্ভাস সিস্টেমে জ্যাম লেগে যাবার উপক্রম,তবু দেবীর অবতরণের সময় হল না এখনো।' জিয়ন,বিড়বিড় করে যেতে লাগলো আপন মনে। শশব্যস্ত ভাবে ক্যান্টিনের বাকি সবাইকে পাশ কাটিয়ে, জিয়নের বেঞ্চের উপর হাতের ডায়েরি আর পেনটা ধপ করে রেখে,'উফ' শব্দে রুহি বুঝিয়ে দিল যে ক্লাস সেরে,বন্ধুদের উপেক্ষা করে, জিয়নের কাছে আসতে তাকে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে।রুহির হাতটা ধরে পাশে বসিয়ে জিয়ন অপলক দৃষ্টিতে দেখেই চলেছে তাকে।রোজই তো সে রুহিকে খুব কাছ থেকে দেখে।...